কিছু কথা না বলে থাকতে পারলাম না তাই লিখতে বাধ্য হলাম । সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করবো।
আমেরিকায় পড়া লেখা করার জন্য আমরা এই গ্রুপে এড হইসি । গ্রামের কৃষক বাবার সন্তান থেকে এলিট প্রিভিলেজ ইংলিশ মিডিয়াম কিডস সবাই এই গ্রুপে আছে , সবাই চাই স্কলারশিপ পেয়ে আমেরিকা যাবো । খুবই ভালো। , এই গ্রুপে যারা আছে বেশি ভাগ মধ্যবিত্ত, স্বপ্নবাজ, গ্যাপ ইয়ারে থাকে বেশি ভাগ , ক্রাইসিসে থাকে, এরা যখন দেখে কেউ স্কলারশিপ পাইসে, ভালো কোথাও যাইতেসে এরা তাদের ইনবক্স করে এবং কথোপকথন এর এক পর্যায় এরা দিবা স্বপ্ন দেখানো শুরু করে এবং মেন্টরশিপ এ ইনরোল করার জন্য প্রোরোচিত করে , তো যেহেতু এরা অলরেডি ক্রাইসিসে থাকে এদের কে ম্যানেজ করা সহজ হয় । তারপর এরা টাকা দেয় এবং পরে এদের কে ক্লাস নেয় , ফরমালিটি ফিলাপ করে , গোটা দশেক ক্লাস নেওয়ার পর দায় শেষে বলে যে এইবার তোমার মত করে কাজ কর আমি গেলাম। আর মজার ব্যাপার হলো এদের কেউ কেউ এমন ভার্সিটির একসেপটেন্স পায়া এইসব স্ক্যাম শুরু করে ঐসব ভার্সিটিতে এপ্লাই করলেই চান্স পাওয়া যায় , ও নিজেই কিছু জানেনা , ভালো ধারনা নাই , এরকম । আমার কথা হল, যে জীবনে ২ টা বই পড়েনাই, ইংলিশে গ্রামার ঠিকঠাক করে লেখতে পারেনা , কিংবা অতো ভালো প্রোফাইল না ওর । ওরে কি কোনো রকম দায়সারা গোছের ক্লাস নিয়ে ছেড়ে দিলে ওর কোনো লাভ হবে ? না , হবেনা । এবং এইসব একসেপটেন্স ধারী লোক গুলো জানে এইসব যে ওরে দিয়ে কোনো লাভ হবেনা আসলে কিন্তু তাও টাকার জন্য বোকা বানায় । এতক্ষন একদম রুট লেভেলের ছাত্রদের কথা বললাম, এখন কিছু স্টুডেন্টের কথা বলি যারা মোটামুটি ঠিকঠাক, প্রোফাইল এভারেজ, রেজাল্ট চলে, ওদের আসলে ব্যাপারটাকে রকেট সাইন্স হিসেবে প্রেজেন্ট করে এবং তারপর ক্যাশ করে । আসলে বিষয়টা কোনো জটিল ই না । পানির মত সহজ, হ্যা ঠিকই পড়েছেন, পানির মত সহজ । এখন বলি যে কিভাবে,
ধরেন আমি আমেরিকা যাবো , আমি কিছু জানিনা, আমি গ্রামে থাকি , আমার কোনো পরিচিত কেউ নাই , আমি কিছুই জানিনা,এখন আমি এই যায়গা থেকে কিভাবে আমেরিকা স্কলারশিপ সহ যাবো?
ন্যুনতম যোগ্যতা : ইংরেজী মোটামুটি বুঝে পড়তে পারা এবং মোটামুটি লিখতে পারা , গুগল করতে পারা । এই দুইটা না পারলে আগে শিখেন।
উপকরণ :
১। এস এস সি, এইচএসসি, ক্লাস ১১-১২ এর কলেজের রেজাল্ট
২ | কলেজের স্যার ৩ জনের থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার,
৩ | একটা কমন এপের রচনা ।
৪ । গুটি কয়েক এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটি
৫ । গুটি কয়েক হনার্স , ( প্রতিযোগিতায় কোনো প্রাইজ)
৬। সাপ্লিমেন্টাল রচনা ।
৭ ! আইএলটিএস নাহলে ডুয়োলিন্গো ।
প্রনালী :
১ । কমন এপ একাউন্ট খুলবেন, বেসিক কিছু জিনিস জানতে চায় এগুলা ফরমের মত ফিলাপ করবেন ।
২। সোজা কলেজে যাবেন, ৩ জন টিচার কে ধরে রেকমেন্ডেশন লেখার লেখতে বলবেন আপনার জন্য । আপনি জানেন না রেকমেন্ডেশন লেটার কি জিনিস? আপনার টিচার ও জানেনা ? সমস্যা নাই , গুগল করবেন, স্যাম্পল দেখবেন , একটা না , দশটা স্যাম্পল দেখেন । কলেজ যেয়ে আপনার টিচার কে বুঝান, পারলে দেখান , টিচার রাজি হয়না এত ঝামেলা নিতে? পুরা কলেজ ঘুরে ঘুরে ম্যানেজ দেন । তারপর কমন এপে
কাউন্সিলর সেকশনে যায়া নিজে নিজে টিচারের ইমেইল এড্রেস এসাইন করেন, টিচার কে বলবেন, স্যার ইমেইল চেক করে একটু একাউন্ট খুলে রেজাল্ট আর রেকমেন্ডেশন লেটার সাবমিট করে দেন । না বুঝলে বুঝায় দেন । এভাবে টিচার দের গুলাও করেন । সোজা । শেষ ।
৩ । কমন এপ এসে কেমনে কি করবেন ? কিছু তো পারিনা । জীবনে দুইটা বই পড়িনাই , ইংরেজী কিছুই লেখিনি, পারিনা, কি করব? সমস্যা নাই , গুগল করেন , কম হইলেও ১০০ টা এসে পড়বেন , আইডিয়া নিন । তারপর ভাইবা চিন্তা একটা স্টোরি মাথায় আনেন, তারপর ঐটা বাংলায় লেখেন । তার ঐটাই বাংলায় ২/৩ সপ্তাহ এডিট করেন , তারপর ঐটাকে ইংলিশ ট্রান্সলেশন করেন জাষ্ট , পারেন না? সমস্যা নাই , কলেজ টিচার, ভাই কাওকে বলেন হেল্প করতে আটকায় গেলে । তারপর মোটামুটি একটা ইংলিশ এসে হয়া গেলো , কিন্তু আপনার এসে তো ঐ গুগলের বাকি এসে গুলার মতো চকচক কাব্যিক হলোনা । কারন আপনার এসে শুধু বেসিক ট্রান্সলেশন করা । তো কি করবেন ? আপনি আপনার আবেগ, অনুভূতি, আপনার মত ইমোশন আছে, ঢালেন, দেখেন আপনার এসে রিলেটেড কোনো কবিতা আছে কিনা,লাগায় দেন, তারপর ঐ এসের সাথে আপনি বসবাস করেন, মানে সকালে দুপুর রাতে ঐ রচনা কে আরেকটু ভালো করার চেষ্টা করেন , একটু ভালো । (একটা ছোট ধারনা দেই, আমি আমার এসে ৬ মাস ধরে লেখসি, ১০০ বারের উপর এডিট করসি ফার্স্ট ড্রাফ্টের পর । ) তারপর কোনো বড় ভাই গ্রুপের এদের দিয়ে রিভিউ নিন তবে বুঝে শুনে এসে দিবেন । আর এপ্লিকেন্ট কাওকে ভুলেও এসে দেখাবেন না ।
৪। ই এফসি মানে আপনি বাসা থেকে কত টাকা দিতো পারবেন পার ইয়ার , ঐটা অনুযায়ী একটু গ্রুপ , গুগল , ঘেটে, বড় ভাইদের সাথে আলোচনা করে একটা কলেজ লিস্ট সাজায় নিবেন । ৫০জন বড় ভাই কে নক দিলে ৫ জন আপনাকে হেল্প করবেই।
৫ । সাপ্লিমেন্টাল এসে : একদম ঠিক কমন এপ যেই প্রসেস বলসি ঐভাবেই লেখবেন।
৬ । কমন এপ, কলেজ এপ্রাই এইসবে দেখবেন অনেক ফরম ফিলাপ করা লাগবে , কনফিউজড হইলে গুগল , এই গ্রুপে অথবা বড় ভাই কারো হেল্প নিবেন।
৭। এপ্লাই করার আগে গ্রুপের ফাইল সেকশন , কলেজ লিস্ট, ইডি কি, আরডি কি , ইডি করলে কি হয় , ইএফসী মানে কি এইগুলো একটু দেইখে রিসার্চ করে নিবেন । ইউটিউব , গুগল , গ্রুপ , রিসোর্সের কোনো অভাব নাই ভাই । হাত বাড়ালেই পাবেন ।
এই একি ভাবে সবাই এপ্লাই করে, শুধু রিসার্চ, হার্ডওয়ার্ক ই পার্থক্য টা ক্রিয়েট করে ।
সময় লাগবে, ধর্য্য ধরেন , ৬/৭ মাসের প্রসেস, শেষ পর্যন্ত লেগে থাকবেন ।
শেষ! এইতো । আর কি ? এইটুক জিনিস, কম্প্লিকেটেড বানায় ভয় পাওয়ার কিছু নাই । যাই হোক, আমি নিজে গেসি প্রসেসের ভিতর দিয়ে তাই কিছু অভিজ্ঞতা থেকে বললাম , আমি টোটাল ৩৪ টা ভার্সিটি তে এপ্লাই করসি আমেরিকা তে , এবং একটি টপ ১০০ ভার্সিটি তে ফুল নিড মিটে ইনরোল করেছি । শুভ কামনা ।
( সরি টু সাম স্ক্যাম মেন্টরস , বোকা বানায় টাকা হাতিয়ে নেয়ার বানিজ্য শেষ হোক । কিছু পেইড মেন্টর আছে যারা খুব ভালো, তাদের প্রতি সম্মান , তারা চেষ্টা করে এফোর্ডেবল ভালো সার্ভিস দিতে তবে সংখ্যা গুটি কয়েক । )




No comments:
Post a Comment